শীর্ষ প্রশ্ন
সময়রেখা
চ্যাট
প্রসঙ্গ

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়

ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পী উইকিপিডিয়া থেকে, বিনামূল্যে একটি বিশ্বকোষ

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
Remove ads

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (১৬ জুন ১৯২০ – ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯) একজন কিংবদন্তি বাঙালি কণ্ঠসঙ্গীত শিল্পী, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক এবং প্রযোজক ছিলেন। তিনি হিন্দি সঙ্গীত জগতে হেমন্ত কুমার নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি বাংলা, হিন্দি এবং অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় গান গেয়েছেন। তিনি রবীন্দ্র সংগীতের সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পী ছিলেন। তিনি শ্রেষ্ঠ পুরুষ নেপথ্য গায়ক বিভাগে দু-বার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। এছাড়াও ফিল্মফেয়ার সহ অসংখ্য দেশি ও বিদেশি পুরস্কার পেয়েছিলেন। তিনি উপমহাদেশের সবথেকে শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতশিল্পীদের একজন ছিলেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরকে 'ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর'[] বলা হয়।

দ্রুত তথ্য হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, প্রাথমিক তথ্য ...
Remove ads

প্রারম্ভিক জীবন

শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের জন্ম তার মাতামহের বাড়ি পবিত্র বারাণসী শহরে। তার মাতামহ ছিলেন একজন শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসক। তার পৈতৃক নিবাস ছিল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার জয়নগরে। তারপরিবার কলকাতা শহরে আসে দ্বিতীয় শতকের প্রথমার্ধে‌। হেমন্ত সেখানে বড়ো হতে থকেন এবং প্রথমে নাসিরুদ্দিন স্কুল এবং পরবর্তীতে ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে পড়াশোনা করেছিলেন। সেখানেই তারসঙ্গে পরিচয় হয় সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের, যিনি পরবর্তীকলে বাংলার স্বনামধন্য কবি হয়েছিলেন। ওই সময়কালে বিশিষ্ট লেখক সন্তোষকুমার ঘোষ মহাশয়ের সঙ্গে তারসখ্যতা গড়ে ওঠে। ওই সময়ে হেমন্ত ছোটো গল্প লিখতেন, সন্তোষ কুমার কবিতা লিখতেন এবং সুভাষ মুখোপাধ্যায় গান গাইতেন।[]

ইন্টারমিডিয়েট পাস করে হেমন্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যান। কিন্তু তিনি সঙ্গীতের জন্য আপন শিক্ষা ত্যাগ করেন।[] তার সাহিত্যিক হওয়ার ইচ্ছে ছিল। কিছুদিন তিনি দেশ পত্রিকার জন্যে লেখেন। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে তিনি সম্পূর্ণভাবে সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করেন।

Remove ads

প্রারম্ভিক সংগীত কর্মজীবন

সারাংশ
প্রসঙ্গ

১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে হেমন্ত তার বন্ধু সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের প্রভাবে আকাশবাণীতে তার গান রেকর্ডিং করেন। গানের প্রথম লাইন ছিল 'আমার গানেতে এলে নবরূপী চিরন্তনী'। হেমন্ত তার প্রারম্ভিক সঙ্গীত কর্মজীবনে পরামর্শদাতা হিসেবে পেয়েছিলেন বাংলা সঙ্গীতজ্ঞ শৈলেশ দত্তগুপ্তকে। প্রথম জীবনে হেমন্ত বাংলার প্রখ্যাত গায়ক পঙ্কজ মল্লিককে অনুসরণ করতেন। এজন্যে তার ডাকনাম ছিল 'ছোটো পঙ্কজ'। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে এক দূরদর্শন সাক্ষাৎকারে হেমন্ত উল্লেখ করেছিলেন যে, তিনি উস্তাদ ফৈয়াজ খানের শিষ্য ফণীভূষণ ব্যানার্জির কাছে ধ্রুপদী সঙ্গীতেরও তালিম নিয়েছিলেন, কিন্তু উস্তাদের অসময়ের মৃত্যুতে তার শিক্ষা অসমাপ্ত রয়ে যায়।

১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে কলাম্বিয়ার লেবেলে হেমন্ত তার প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ড প্রকাশ করেন। চলচ্চিত্রের বাইরে রেকর্ডের ওই গানগুলো ছিল 'জানিতে যদি গো তুমি' এবং 'বলো গো বলো মোরে', যেগুলোর কথা নরেশ ভট্টাচার্যের এবং সঙ্গীত শৈলেশ দত্তগুপ্তের। তার পর থেকে ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রতি বছর গ্রামোফোন কোম্পানি অফ ইন্ডিয়ার (জিসিআই) জন্যে ধারাবাহিকভাবে চলচ্চিত্রের বাইরে হেমন্তের রেকর্ড প্রকাশিত হোত। তার প্রথম হিন্দি গানগুলো 'কিতনা দুখ ভুলায়া তুমনে' এবং 'ও প্রীত নিভানেওয়ালি' ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে জিসিআইয়ের কলাম্বিয়া লেবেলেই প্রকাশিত হয়েছিল। ওই গানগুলোর সঙ্গীতকার ছিলেন কমল দাশগুপ্ত; কথা লিখেছিলেন ফৈয়াজ হাসমি

১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা ভাষায় নির্মিত "রাজকুমারীর নির্বাসন" চলচ্চিত্রে হেমন্ত প্রথম বাংলা গান "জাগো প্রথম প্রণয়" এবং "বন্ধু হে" গান প্লেব্যাক করেন । সুর দিয়েছিলেন শচীন দেব বর্মন । ১৯৪১ সালে হেমন্ত "নিমাই সন্ন্যাস" সিনেমায় ছবি বিশ্বাসের লিপে "কহা কানু কহি" গান প্লেব্যাক করেন।১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে চলচ্চিত্রের বাইরে বাংলা গানে হেমন্ত নিজে প্রথম সুর দিয়েছিলেন 'কথা কয়োনাকো শুধু শোনো' এবং 'আমার বিরহ আকাশে প্রিয়া' এই দুটি গানে। এগুলোর কথা লিখেছিলেন অমিয় বাগচী। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে পণ্ডিত অমরনাথের সঙ্গীত পরিচালনায় তিনি ইরাদা (১৯৪৪ চলচ্চিত্র) চলচ্চিত্রে প্রথম হিন্দি গানগুলো গেয়েছিলেন। হেমন্তকে শীর্ষস্থানীয় রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী হিসেবে ধরা হয়। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে অপরাধী বাংলা চলচ্চিত্রে তার প্রথম রবীন্দ্র সঙ্গীত রেকর্ড করা হয়েছিল।[] গানটা ছিল 'ঐ যে ঝড়ের মেঘে'। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলাম্বিয়া লেবেলের অধীনে চলচ্চিত্রের বাইরে প্রথম রবীন্দ্র সঙ্গীত রেকর্ড করেন। গানগুলো ছিল 'আমার আর হবে না দেরি' এবং 'কেন পান্থ এ চঞ্চলতা'। তার আগে তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিয়ো/আকাশবাণীতে আমার মল্লিকাবনে রেকর্ড করেছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রেকর্ডটা বিস্মৃতিতে চলে গিয়েছে।[]

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে সংগীত পরিচালক হিসেবে তার প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র ছিল অভিযাত্রী । যদিও ওই সময় অনেক গান রেকর্ড করে হেমন্ত প্রচুর প্রশংসা পেয়েছেন, ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি বড়ো বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছিলেন। বাংলায় তার সমসাময়িক পুরুষ সঙ্গীত শিল্পীরা ছিলেন জগন্ময় মিত্র, রবীন মজুমদর, সত্য চৌধুরী, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য্য, সুধীরলাল চক্রবর্তী, বেচু দত্ত[] এবং তালাৎ মাহমুদ

Remove ads

পরিবার

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়রা তিন ভাই এবং এক বোন, নীলিমা। বড়ো ভাই শক্তিদাস মুখোপাধ্যায় চাকরি করতেন,সেজো ভাই তারাজ্যোতি ছোটো গল্প লিখতেন। ছোটো ভাই অমল মুখোপাধ্যায় কিছু বাংলা চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন এবং গানও গেয়েছিলেন, তার গান 'এই পৃথিবীতেই সারাটা জীবন'; নামকরা চলচ্চিত্রগুলো ছিল হসপিটাল এবং অবাক পৃথিবী। তিনি ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের দশকে কিছু গান রেকর্ড করেছিলেন এবং জীবনের অনেকটা পথ একলাই, হেমন্তের এই গানে খুবই স্মরণীয় সুরও দিয়েছিলেন।[]

১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে হেমন্ত বাংলা সঙ্গীত শিল্পী বেলা মুখোপাধ্যায়ের (মৃত্যু ২৫ জুন ২০০৯),[] সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে কাশীনাথ বাংলা চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালক পঙ্কজ মল্লিক বেলাকে দিয়ে কিছু জনপ্রিয় গান গাইয়েছিলেন কিন্তু বিবাহের পর বেলা আর সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করেননি। তাঁদের দুই সন্তান — পুত্র জয়ন্ত এবং কন্যা রাণু। সীমিত সাফল্য নিয়ে রাণু মুখোপাধ্যায় ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের দশকের শেষে এবং ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের দশকের শুরুর দিকে গান গাইতেন। জয়ন্ত ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের দশকের জনপ্রিয় ভারতীয় অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

সাফল্য এবং মুম্বই যাত্রা

সারাংশ
প্রসঙ্গ

১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের দশকে হেমন্ত ভারতীয় গণনাট্য সংঘ (আইপিটিএ) সংস্থার সক্রিয় সদস্য হয়েছিলেন এবং আর এক আইপিটিএ সদস্য - সঙ্গীত রচয়িতা এবং সঙ্গীতজ্ঞ সলিল চৌধুরীর সঙ্গে অনুষঙ্গ শুরু করেছিলেন। আইপিটিএ সংস্থার অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দুর্ভিক্ষ এবং এর প্রতিরোধে ব্রিটিশ শাসক ও সম্পদশালী ভারতীয়দের নিষ্ক্রিয়তা।

হেমন্ত ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে সলিল চৌধুরীর কথায় ও সুরে চলচ্চিত্রের বাইরে একটা গান গাঁয়ের বধূ রেকর্ড করেন। দু-পিঠের ৭৮ আরপিএম ছ-মিনিটের ওই ডিস্ক রেকর্ডে বাংলার ভিন্ন গতির এক আবেগমথিত প্রচলিত কাঠামোকে নিবদ্ধ করেছিল। এই গান এক উন্নত এবং মমতাময়ী গ্রাম্য নারীর জীবন ও পরিবারকে সরল শান্ত মনোরম করে ফুটিয়ে তুলেছিল এবং বর্ণিত হয়েছিল কীভাবে দুর্ভিক্ষের দৈত্য ও আসন্ন দারিদ্র্যের দ্বারা বিধ্বস্ত হয়েছিল। এই গান হেমন্ত এবং সলিলকে পূর্ব ভারতে এক অভাবনীয় জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল, এককথায়, হেমন্তকে তার সমসাময়িক পুরুষ গায়কদের থেকে এগিয়ে রেখেছিল। পরবর্তী কয়েক বছরে হেমন্ত এবং সলিল জুটি সমাজকে অনেক গান উপহার দিয়েছিল। প্রায় এই সমস্ত গানেই জনপ্রিয়তার প্রমাণ ছিল।[]

একই সময়কালে হেমন্ত বাংলা চলচ্চিত্রে সুরসৃষ্টির জন্যে বরাত পেতে শুরু করেন। তার মধ্যে কয়েকটা ছিল পরিচালক হেমেন গুপ্তের জন্যে। কয়েক বছর পর হেমেন যখন মুম্বই যান, ফিল্মিস্তান স্টুডিয়োর ব্যানারে তার পরিচালনায় আনন্দমঠ নামে প্রথম হিন্দি চলচ্চিত্রে সুরসৃষ্টির জন্যে হেমন্তকে ডাকেন। ওই ডাকে সড়া দিয়ে ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে হেমন্ত মুম্বই পাড়ি দেন এবং ফিল্মিস্তান স্টুডিয়োতে যোগ দেন। আনন্দমঠ (১৯৫২) চলচ্চিত্রের সঙ্গীত মাঝারি সাফল্য পেয়েছিল। সম্ভবত, এই চলচ্চিত্র থেকে খুবই উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া বন্দে মাতরম গানটায় হেমন্ত একটা কুচকাওয়াজের সুরারোপ করেছিলেন। আনন্দমঠ-এর পর শর্ত চলচ্চিত্রের মতো কয়েকটা ফিল্মিস্তান চলচ্চিত্রে হেমন্ত পরবর্তী কয়েক বছরে সুরসৃষ্টি করেছিলেন, যে গানগুলো মাঝারি জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।১৯৫৬ সালে তার একই সুরে ভারতে "আও বাচ্চে তুমকো দিখায়ে" এবং পাকিস্তানে "আও বাচ্চে সায়র করায়ে" গান জনপ্রিয় হয় । নেপথ্য গায়ক হিসেবে বলিউডে তিনি জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন।[১০] অভিনেতা দেব আনন্দের জন্যে নেপথ্য গায়ক হিসেবে তার গান শচীন দেব বর্মন সুরারোপিত জাল ("য়েহ রাত, য়েহ চাঁদনি ফির কাঁহা..."), হাউস নম্বর ৪৪ ("চুপ হ্যায় ধরতি, চুপ হ্যায় চাঁদ সিতারে..."), সোলবা সাল ("হ্যায় আপনা দিল তো আওয়ারা..."), ফান্টুস ("তেরি দুনিয়া মে জীনে সে..."), এবং বাত এক রাত কি ("না তুম হামে জানো...") খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল এবং এভাবে চলতে থাকে। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের দশকে তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যান্য কয়েকজন নায়কের জন্যে নেপথ্য গায়কের কাজ করেছিলেন; যেমন, প্রদীপ কুমার (নাগিন, ডিটেকটিভ), সুনীল দত্ত (দুনিয়া ঝুঁকতি হ্যায়) এবং ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের দশকের শেষদিকে বিশ্বজিতের জন্যে (বিস সাল বাদ, বিন বাদল বরসাত, কোহরা) এবং ধর্মেন্দ্রের জন্যে (অনুপমা); তিনি এই সমস্ত চলচ্চিত্রের জন্যে সুরসৃষ্টি করেছিলেন।

Remove ads

কর্মজীবনে সাফল্য

সারাংশ
প্রসঙ্গ

১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের দশকের মাঝামাঝি হেমন্ত একজন গায়ক ও সুরকার হিসেবে তার অবস্থান মজবুত করেছিলেন। তিনি নিজে গাইতে এবং সুর করতে মূলত পছন্দ করতেন সহজ-সরল মেলোডি প্রধান গান, কেননা বাঙালীর সাঙ্গীতিক অন্তরটি সুরকার ও গায়ক হিসাবে খুব ভালো অনুভব করতেন। বাংলায় তিনি রবীন্দ্র সংগীতের একজন শীর্ষস্থানীয় শিল্পী ছিলেন এবং সম্ভবত পুরুষ গায়কদের মধ্যে খুবই অগ্রগণ্য বিবেচ্য ছিলেন। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দের মার্চে কলকাতায় দেবব্রত বিশ্বাসের (১৯১১-১৯৮০) সম্মানে হেমন্ত এক অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলেন; ওই অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী দেবব্রত বিশ্বাস নিঃসংকোচে বলেছিলেন যে, হেমন্ত হচ্ছে রবীন্দ্র সঙ্গীতকে জনপ্রিয় করে তোলার 'দ্বিতীয় নায়ক', প্রথম জন হলেন কিংবদন্তি পঙ্কজ কুমার মল্লিক। রবীন্দ্রসঙ্গীত আর রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে হেমন্তকুমার তার আত্মকথা "আনন্দধারা"র এক জায়গায় লিখেছেন -

" সারা পৃথিবীর গানের সুরকে আয়ত্ত করে নতুন সুর সৃষ্টি করলেন রবীন্দ্রনাথ । সেই সুরের আলপনাকে বাংলা গানে ছিটিয়ে দিলেন । হয়ে গেল এক অপূর্ব সৃষ্টি । সর্বযুগের, সর্বকালের সৃষ্টি । এতবড়ো সুরকার আজও জন্মায়নি কোন দেশে। এই বুড়ো পৃথিবীকে ইচ্ছে হয় জিজ্ঞাসা করি, বয়েস তো অনেক হল। রবীন্দ্রনাথের মতো এমন সর্বতোমুখী প্রতিভা আর দেখেছে একটা ।

[১১] মুম্বইতে নেপথ্য গায়নের পাশাপাশি হেমন্ত সুর সৃষ্টিকারীর একটা ঘরানা গড়ে তুলেছিলেন। তিনি নাগিন (১৯৫৪) নাম এক হিন্দি চলচ্চিত্রের জন্যে সুর সৃষ্টি করেছিলেন, যেটা ওই চলচ্চিত্রে সঙ্গীতের জন্যেই বড়ো সাফল্য এসেছিল। নাগিনের গানগুলো ধারাবাহিকভাবে দু-বছর তালিকা-শীর্ষে অবস্থান করেছিল এবং ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে হেমন্তর মর্যাদাপূর্ণ ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ সংগীত নির্দেশনা পুরস্কার লাভে সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে দিয়েছিল। ঠিক ওই বছরই তিনি বাংলা চলচ্চিত্র শাপমোচনের জন্যে সঙ্গীত প্রস্তুত করেন, যেখানে অভিনেতা উত্তম কুমারের জন্যে নেপথ্য কণ্ঠে চারখানা গানও গেয়েছিলেন। এটা নেপথ্য গায়ক-নায়ক হিসেবে হেমন্ত-উত্তম জুটির এক লম্বা মেলবন্ধনের শুরু ছিল। তারা দুজনে পরবর্তী দশক জুড়ে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে ভীষণ জনপ্রিয় গায়ক-নায়ক জুটি ছিলেন।

১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের দশকের শেষ দিকে হেমন্ত অসংখ্য বাংলা এবং হিন্দি চলচ্চিত্রের জন্যে গান গেয়েছিলেন এবং সুর দিয়েছিলেন, অসংখ্য রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং চলচ্চিত্রের বাইরের গান রেকর্ড করেছিলেন। যার মধ্যে প্রায় সবই, বিশেষ করে বাংলা গান অত্যধিক জনপ্রিয় হয়েছিল। ওই সময়কালকে তার কর্মজীবনে সাফল্যের শীর্ষবিন্দু হিসেবে ভাবা হয় এবং যেটা মোটামুটি এক দশক স্থায়ী ছিল। তিনি নচিকেতা ঘোষ, রবিন চ্যাটার্জী, সলিল চৌধুরী প্রমুখ বাংলার বিশিষ্ট সঙ্গীত নির্দেশকের সুরে গান গেয়েছেন। বেশ কিছু নামকরা চলচ্চিত্রে হেমন্ত সুর সৃষ্টি করেছেন; তার মধ্যে আছে: বাংলায় হারানো সুর, মরুতীর্থ হিংলাজ, নীল আকাশের নীচে, লুকোচুরি, স্বরলিপি, দীপ জ্বেলে যাই, শেষ পর্যন্ত, কুহক, দুই ভাই, সপ্তপদী এবং হিন্দিতে জাগৃতি, এক হি রাস্তা

Remove ads

চলচ্চিত্র প্রযোজনা

সারাংশ
প্রসঙ্গ

হেমন্ত ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের দশকের অন্তিম পর্বে তার নিজের ব্যানারে হেমন্ত-বেলা প্রোডাকশন্স নামে চলচ্চিত্র প্রযোজনা শুরু করেছিলেন। ওই ব্যানারে প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র ছিল স্বনামধন্য মৃণাল সেন পরিচালিত নীল আকাশের নীচে (১৯৫৯)। কাহিনি নেওয়া হয়েছিল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভূমিকায় কলকাতার রাস্তার এক চিনা ফেরিওয়ালার পরিশ্রমের যন্ত্রণা থেকে। এই চলচ্চিত্র ভারত সরকার কর্তৃক দেশের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান রাষ্ট্রপতির স্বর্ণ পদক লাভ করেছিল। পরের দশকে হেমন্তের প্রযোজনা কোম্পানি নাম পরিবর্তন করে গীতাঞ্জলি প্রোডাকশন্স হয় এবং একের পর এক হিন্দি চলচ্চিত্রের প্রযোজনা করতে থাকে; যেমন, বিশ সাল বাদ, কোহরা, বিবি অওর মকান, ফরার, রাহগির এবং খামোশি - উপর্যুক্ত সব চলচ্চিত্রেই সুর সৃষ্টি করেছেন হেমন্ত। শুধুমাত্র বিশ সাল বাদ এবং খামোশি এগুলোর মধ্যে অধিক বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছিল।

১৯৬৩ সালে তিনি "দূর গগন কী ছাও মে" সিনেমায় কিশোর কুমারের সুরে "রাহি তু মত রুক যানা" গানটি প্লেব্যাক করেন ।

এর পর বাংলায় ফেরা। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে হেমন্ত পলাতক চলচ্চিত্রের জন্যে সুর সৃষ্টি করেন, যেখানে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে বাংলা লোক সংগীত এবং লঘু সঙ্গীতের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন। এটা একটা বড়ো সাফল্যের প্রমাণ দিয়েছিল এবং হেমন্তের সঙ্গীত গ্রন্থনার ধরন ভবিষ্যতের চলচ্চিত্রগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছিল, যেমন, বাঘিনি এবং বালিকা বধূ। বাংলা ছবিদ্বয় মণিহার এবং অদ্বিতীয়া সাংগীতিক এবং বাণিজ্যিক দিক থেকে বড়ো সাফল্য পেয়েছিল, তার সঙ্গীত গ্রন্থনায় লঘু ধ্রুপদী ছোঁয়া ছিল। ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনে গ্রামোফোন কোম্পানি অফ ইন্ডিয়া হেমন্তকে দিয়ে এক বড়ো অংশের স্মারক প্রস্তুত করেছিল। এটাও এক বড়ো সাফল্যের মুখ দেখেছিল। হেমন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভ্রমণ সমেত অনেক কনসার্টের জন্যে বহুবার বিদেশে গিয়েছিলেন। সর্বসাকুল্যে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের দশকে তিনি বাংলার প্রধান পুরুষ গায়ক হিসেবে নিজের জায়গা ধরে রেখেছিলেন এবং হিন্দি চলচ্চিত্রের সঙ্গীতকার ও গায়ক হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন।

১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের দশকে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতিনাট্যগুলোর উদীয়মান এবং প্রধান পুরুষ কণ্ঠ ছিলেন; যেমন, বাল্মিকী প্রতিভা, শ্যামা, শাপমোচন, চিত্রাঙ্গদা এবং চণ্ডালিকা। ওই গীতিনাট্যগুলোতে প্রধান নারী কণ্ঠ হিসেবে থাকতেন কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯২৪-২০০০) এবং সুচিত্রা মিত্র (১৯২৪-২০১০), তিনি রবীন্দ্র সংগীত শিল্পীত্রয়ীর অংশ ছিলেন, যাঁরা জনপ্রিয় এবং শ্রদ্ধাষ্পদ ছিলেন। এঁদের বলা হত 'হেমন্ত-কণিকা-সুচিত্রা' এবং সঙ্গে ছিলেন দেবব্রত বিশ্বাস, এই শিল্পী চতুষ্টয় ধারাবাহিকভাবে রবীন্দ্র গ্রন্থনার বহুশ্রুত প্রদর্শক ছিলেন। অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায়, চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়, সাগর সেন, সুমিত্রা সেন এবং ঋতু গুহ ছিলেন সেই সময়কার রবীন্দ্র সঙ্গীতের অন্যান্য প্রধান শিল্পী।

১৯৬৬ সালে প্রথম প্ল্যাটিনাম জুবিলী উদযাপনকারী "মণিহার" সিনেমায় তার সুরে পঙ্কজ কুমার মল্লিক , লতা মঙ্গেশকর , সুমন কল্যাণপুর এবং তিনি স্বয়ং গান প্লেব্যাক করেন । সুমন কল্যাণপুর এই সিনেমায় তার প্রথম বাংলা গান‌ "দূরে সরে থেকো না" প্লেব্যাক করেন ।

১৯৬৭ সালে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে মুকেশের "মনকে কিছু বলো না" এবং "আমার মনের কত" গান দুটি প্রকাশিত হয় ।

১৯৬৮ সালে তার তত্ত্বাবধানে কানন দেবীর রবীন্দ্রসঙ্গীতের অ্যালবাম প্রকাশিত হয় । এবছর তার সুরে তালাত মাহমুদের গাওয়া "চোখের জলের দাগ" এবং "এ যদি আকাশ হয়" গান দুটি প্রকাশিত হয় ।

Remove ads

পরবর্তী কর্মজীবন

সারাংশ
প্রসঙ্গ

১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের দশকে হিন্দি চলচ্চিত্রে হেমন্তর নামমাত্র অবদান ছিল। তিনি তার নিজের প্রডাকশন্সে নিজের মতো সঙ্গীত রচনা করতেন, কিন্তু তার মধ্যে কোনো চলচ্চিত্র কিংবা তার সঙ্গীত সফলতা পায়নি। ১৯৭০ সালে হিন্দি সিনেমা "দূর কা রাহি" তে কিশোর কুমারের সুরে "চলতি চলি যায়" গানটি প্লেব্যাক করেছেন। ১৯৭৪ সালে তিনি বাপ্পী লাহিড়ীর সুরে আশা ভোঁসলের সাথে "হাইওয়ান" নামক হিন্দি সিনেমায় "পাগল পাগল হ্যায় ইয়ে মৌসম" গানটি প্লেব্যাক করেন । ১৯৭৮ সালে তিনি রাহুল দেব বর্মনের সুরে "চোর হো তো অ্যায়সা" চলচ্চিত্রে কিশোর কুমার এবং আশা ভোঁসলের সাথে "মস্তি মে বইঠ্কে" গান এবং "হীরালাল পান্নালাল" নামক হিন্দি চলচ্চিত্রে "আজা, মেরে পেয়ার আজা" গান প্লেব্যাক করেন। শেষের গানটি তাঁর গাওয়া শেষ হিন্দি গান ‌। শেষের গানটি রেকর্ড করার আগের দিন "লাভ ইন কানাডা" (১৯৭৯) নামক হিন্দি সিনেমার জন্য নিজের সুরে "হামকো দেনা হ্যায় ধরতি মা" গানটি সহশিল্পী দের সাথে রেকর্ড করেন । এটিই তাঁর নিজের সুরে রেকর্ড করা শেষ হিন্দি গান । লক্ষ্মীকান্ত - প্যারেলাল জুটির সুরে ১৯৭৭ সালে গাওয়া "জননী জগৎ কী" গান ১৯৮৭ সালে "মেরা করম মেরা ধরম" হিন্দি সিনেমায় মুক্তি পায় । এটি তার মুক্তি পাওয়া শেষ হিন্দি গান । তবে, বাংলায় তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত, চলচ্চিত্র এবং চলচ্চিত্রের-বাইরের গানের বিশিষ্ট শিল্পী ছিলেন। তার সঙ্গীত দশক জুড়ে ধারাবাহিকভাবে জনপ্রিয় ছিল। তার মধ্যে কয়েকটা হলো: যদি জানতে চাও তুমি... (১৯৭২), একগোছা রজনীগন্ধা..., আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা... (সলিল চৌধুরীর সুরে), সেদিন তোমায় দেখেছিলাম ... (১৯৭৪), খিড়কি থেকে সিংহদুয়ার... (স্ত্রী, ১৯৭২), কে জানে ক-ঘণ্টা... (সোনার খাঁচা, ১৯৭৪), যেওনা দাঁড়াও বন্ধু... (ফুলেশ্বরী, ১৯৭৪) এবং চলচ্চিত্রের দৃশ্য অনুযায়ী সুন্দরভাবে প্রযুক্ত জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীতগুলো। একটা খুব জনপ্রিয় এবং উচ্চাঙ্গের উদাহরণ হলো দাদার কীর্তি (১৯৮০) চলচ্চিত্রে চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে...। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে হেমন্ত তার নিজের প্রযোজিত অনিন্দিতা চলচ্চিত্রে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এটা বক্স অফিসে খুব ভালো ফল দিতে পারেনি। যাইহোক, এর মূল উপজীব্য দিনের শেষে ঘুমের দেশে ছিল তার এই শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় রবীন্দ্র সংগীতের মধ্যে অন্যতম। পঙ্কজ কুমার মল্লিক এই গানের মূল সুরকার হলেও এই গানে 'সাঁঝের বেলা ভাঁটার স্রোতে' অংশটি পঙ্কজ মল্লিকের অনুমতি নিয়ে সুর করেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজে। তিনি "নিমন্ত্রণ" (১৯৭১) নামক বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ গায়কের জাতীয় পুরস্কার পান। ১৯৭১ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক কনরাড রুকসের ডাকে হেমন্ত হলিউডে গিয়েছিলেন।

হেমন্ত কনরাড রুকসের সিদ্ধার্থ চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালক। তিনি ওই চলচ্চিত্রে নেপথ্য গায়ক হিসেবে ''ও নদীরে...'' (সংগীত এবং কণ্ঠ তাঁর ''নীল আকাশের নীচে'' থেকে) গেয়েছেন। হেমন্ত হলিউডে নেপথ্য গায়ক হিসেবে গান করা প্রথম ভারতীয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকার হেমন্তকে মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোরের নাগরিকত্ব দিয়ে সম্মানিত করেছিলেন; তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া প্রথম ভারতীয় গায়ক । তিনি "নকল সোনা" (১৯৭৩) সিনেমায় অতিথি শিল্পী হিসাবে নিজের ভূমিকায় অভিনয় করেন এবং স্বকণ্ঠে সংগীত পরিবেশন করেন । এই সময় তিনি নচিকেতা ঘোষের সুরে অন্যান্য গায়িকাদের সাথে "ঠাকুরমার ঝুলি"র বিভিন্ন গল্প এবং সুধীন দাশগুপ্তের সুরে "ছোটদের রামায়ণ" রেকর্ড করেন ।

১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলার দুজন প্রধান সংগীতকার নচিকেতা ঘোষ এবং রবীন চট্টোপাধ্যায়, যাঁরা ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের দশকের প্রথম দিক থেকে হেমন্তের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতেন, তাঁদের জীবনাবসান হয়েছিল। সত্তর এবং আশির দশকে তার একক এবং অন্যান্য গায়িকাদের সাথে দ্বৈতকণ্ঠে অসংখ্য রবীন্দ্রসঙ্গীতের মধ্যে কিছু রবীন্দ্রসঙ্গীত তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় ।

১৯৭৬ সালে আকাশবাণী (কলকাতা)য় তার সুরারোপিত "দেবী দূর্গতিহারিণীং" জনপ্রিয়তা পায়নি । সত্তরের দশকের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত ফুলেশ্বরী, রাগ অনুরাগ, গণদেবতা এবং দাদার কীর্তি ইত্যাদি চলচ্চিত্রে হেমন্ত সংগীত পরিচালনা করায় তাঁকে বাংলার প্রধান সংগীত পরিচালক রূপে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের দশক এবং ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের দশকে সলিল চৌধুরীর সঙ্গে হেমন্ত যেসব কাজ করেছিলেন ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে তার মধ্যে থেকে কিছু পুনরায় রেকর্ড করেছিলেন। এই অ্যালবামের নাম হলো লেজেন্ড অফ গ্লোরি, ভল্যুম ২, হেমন্তের বয়সের ছাপ এবং শ্রান্ত কণ্ঠ সত্ত্বেও রেকর্ডটা ভালো বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছিল।

তিনি ১৯৭৫ সালে 'আনন্দধারা' নামে স্মৃতিকথা লেখেন ।

১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে হৃদাঘাত হয়েছিল, যার ফলে তার কণ্ঠস্বর ক্ষেপণের, বিশেষত তার শ্বাস নিয়ন্ত্রণের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল। তিনি আটের দশকের গোড়ার দিকে ধারাবাহিকভাবে গান রেকর্ড করছিলেন, কিন্তু তার পুরুষালি কণ্ঠে একটু স্বরের তফাৎ পড়ে। ১৯৮১ সালে সলিল চৌধুরীর সুরে হেমন্তবাবুর গাওয়া ৬ টি নতুন আধুনিক বাংলা গান নিয়ে "অনেক গানের পাখি" অ্যালবাম প্রকাশিত হয় । এবছর তার সুরে অমৃক সিং অরোরার "রূপসী দোহাই তোমার" গান এবং তারই তত্ত্বাবধানে কিশোর কুমারের প্রথম রবীন্দ্রসঙ্গীতের অ্যালবাম "এই কথাটি মনে রেখো" প্রকাশিত হয় এবং খুব জনপ্রিয়তা লাভ করে । পরের বছর ১৯৮২ সালে সলিল চৌধুরীর সুরে তার গাওয়া আধুনিক বাংলা গানের শেষ নতুন অ্যালবাম প্রকাশিত হয় । এবছর তার সুরে কিশোর কুমার -এর "আমার পূজার ফুল" নামে আধুনিক বাংলা গানের অ্যালবাম প্রকাশিত হয় এবং খুব জনপ্রিয়তা লাভ করে । পরের বছর ১৯৮৩ সালে "অজান্তে" (Ajantay) সিনেমায় হেমন্তবাবুর সুরে ঊষা উথ্থুপ প্রথম বাংলা গান "এসো গাও নাচো" প্লেব্যাক করেন । ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে হেমন্ত নিজের সংগীত জীবনের ৫০ বর্ষপূর্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সংবর্ধনা পেয়েছিলেন, এর মধ্যে খুব উল্লেখযোগ্য হলো গ্রামোফোন কোম্পানি অফ্ ইন্ডিয়া। ওই বছরই হেমন্ত গ্রামোফোন কোম্পানি অফ ইন্ডিয়া থেকে তার শেষ অ্যালবাম প্রকাশ করেন - এটা ছিল চারটে আধুনিক গান সমৃদ্ধ একটা ৪৫ আরপিএম সমন্বিত সম্প্রসারিত রেকর্ড। পরবর্তী বছরগুলোতে হেমন্ত ছোটোখাটো কোম্পানিগুলো থেকে কিছু চলচ্চিত্রের বাইরের গান রেকর্ড করেছিলেন যারা উঠতি ক্যাসেট-ভিত্তিক সংগীত তৈরি শিল্পের সঙ্গে এঁটে উঠছিল। সেগুলোর মধ্যে অল্প কয়েকটা বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছিল। তিনি তখন মুষ্টিমেয় কিছু চলচ্চিত্র, একটি বাংলা এবং একটা হিন্দি দূরদর্শন ধারাবাহিকের জন্যে সংগীত পরিচালনা করেছিলেন। যাইহোক, এই সময়ের মধ্যে তিনি এক প্রতিষ্ঠান, প্রিয় এবং শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন, যিনি ছিলেন নম্র এবং বন্ধুত্বপূর্ণ ভদ্রলোক। তার মানবতাধর্মী কার্যকলাপের মধ্যে অঙ্গীভূত ছিল পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় তার নিজের গাঁ বহড়ুতে তার প্রয়াত পিতার স্মরণে একটা হোমিয়োপ্যাথিক হাসপাতাল চালানো। তার সময়কালে তিনি আকাশবাণী, দূরদর্শন (টিভি) এবং চলন্ত অনুষ্ঠান/কনসার্টে নিয়মিত অংশগ্ৰহণে অবিরত ছিলেন ।

১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের দশকের প্রথমদিকে রেকর্ড করা বাচিক শিল্পী গৌরী ঘোষের সঙ্গে এক দূরদর্শন সাক্ষাৎকারে হেমন্তের স্ত্রী বেলা মুখোপাধ্যায় পুনরুল্লেখ করেন যে, তিনি জানতেন না জীবৎকালে হেমন্ত কত সংখ্যক ব্যক্তি এবং পরিবারকে আর্থিক ও অন্যান্য ভাবে সাহায্য করেছেন ; শুধুমাত্র তার চলে যাওয়ার পরেই সেসব ক্রমশ প্রকাশ পেয়েছিল। বেলা মুখোপাধ্যায় "আমার স্বামী হেমন্ত" নামে স্মৃতিকথা রচনা করেছেন ।

১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে হেমন্ত ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মভূষণ পুরস্কারের জন্যে মনোনীত হয়েছিলেন যেটা তিনি বিনীতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, ইতোমধ্যে ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে তিনি একইভাবে পদ্মশ্রী পুরস্কার নিতে অস্বীকার করেছিলেন। ওই বছরই কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে হেমন্তবাবুর সংগীত জীবনের ৫০ বর্ষপূর্তিতে তাঁকে এক রাজকীয় গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল ; তার ভক্ত এবং গুণগ্রাহীদের তরফ থেকে আর এক কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী লতা মঙ্গেশকর তাঁকে স্মারক দিয়ে সংবর্ধনা জানান । ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর এবং ১৫ নভেম্বর তারিখে যথাক্রমে কিশোর কুমারের এবং শ্যামল মিত্রের মৃত্যু হয়েছিল। বয়সের ছাপ পড়া গলাতেও তিনি ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে লালন ফকির চলচ্চিত্রে গান গেয়ে দ্বিতীয়বার পুরুষ গায়কের জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। এবছর তার একটি বাংলা আধুনিক গানের অ্যালবাম এবং একটি লোকগীতির অ্যালবাম প্রকাশিত হয় ।

১৯৮৮ সালে "আমার গানের স্বরলিপি" নামে তার অনুলিখিত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ।

১৯৮৯ সালের ৩১ মে তিনি লক্ষ্মীকান্ত রায়ের কথায় ও দীপেন মুখোপাধ্যায়ের সুরে এবং সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবস্থাপনায় আকাশবাণী (কলকাতা)র জন্য "মাথার উপর আকাশ" , "ঐ মূর্তিটা তৈরি" এবং সর্বশেষে "একটাই শুধু প্রশ্ন আমার" গান তিনটি রেকর্ড করেন এবং শেষ গানটি তাঁর মৃত্যুর আগে প্রকাশ করতে নিষেধ করেন । এটিই তাঁর জীবনের রেকর্ড করা শেষ নতুন গান । তাঁর মৃত্যুর পরদিন গানটি রেডিও-তে প্রচারিত হয় । ১৯৮৯ সালের ৩১ মের পর কিছু নতুন গান কনসার্টে গাইলেও গানগুলো রেকর্ড করা হয়ে ওঠেনি ।

এবছর ৩ জুন বারদীর লোকনাথ বাবাকে নিয়ে আরতি মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মোট ১৬ টি গানের একটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয় , যার মধ্যে ৯ টি গান হেমন্তবাবুর গাওয়া । এমাসেই তার গাওয়া "দশাবতার স্তোত্র" প্রকাশিত হয় ।

২৫ জুন সলিল চৌধুরীর সুরে তিনি হারানের নাতজামাই চলচ্চিত্রের জন্য হৈমন্তী শুক্লার সাথে এবং ডাবিং আর্টিস্টের সহায়তায় নিজের পঞ্চাশের দশকে গাওয়া "ধান কাটার গান" পুনরায় রেকর্ড করেন । এরপর তিনি মহাকবি কালিদাসের "মেঘদূত" কাব্যের নির্বাচিত অংশ নিজে সুরারোপ করে রেকর্ড করার ইচ্ছে প্রকাশ করলেও তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি ।

এই বছর তিনি "আপন‌ আমার আপন" (১৯৯০) সিনেমায় অতিথি শিল্পী হিসাবে নিজের ভূমিকায় অভিনয় করেন ।

১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দেই সেপ্টেম্বর মাসে মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার গ্রহণের জন্যে তথা একটা কনসার্টে সংগীত পরিবেশনের তাগিদে হেমন্ত বাংলাদেশের ঢাকা শহরে ভ্রমণ করেছিলেন। ঐ সফরের অব্যবহিত পরে কলকাতায় ফিরেই ১৮ সেপ্টেম্বর বসিরহাট কলামন্দিরে সংগীত পরিবেশন করেন । ২৩ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র সদনে তার সংবর্ধনা সভায় তিনি শেষবারের মতো সংগীত পরিবেশন করেন । সেদিন গায়িকা সুপ্রভা সরকারের মৃত্যু হয় । তিনি সুপ্রভা সরকারের বাড়িতে যান । সেখান থেকে ফিরে তিনি অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন । দুদিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর তারিখে তার ঐ বছরের মে মাসে রেকর্ড করা কিছু গান নিয়ে আধুনিক বাংলা গানের অ্যালবাম "আনন্দ লহরী" প্রকাশিত হয় । পরের দিন ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি আর একটা হৃদাঘাত পেয়েছিলেন এবং দক্ষিণ কলকাতার এক নার্সিংহোমে রাত ১১:১৫টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন । তাঁর মৃত্যুতে সত্যজিৎ রায় বলেন , "রবীন্দ্রসঙ্গীতের দ্বিতীয়বার মৃত্যু হল ।" হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে বাংলা গানের স্বর্ণযুগের অবসান ঘটে ।

Remove ads

উত্তরাধিকার

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় প্রায় দেড়শোটি বাংলা ছবিতে সুর দিয়েছেন, গান গেয়েছেন। তার প্রয়াণের প্রায় দুই দশক পরেও গ্রামোফোন কোম্পানি অফ ইন্ডিয়া প্রত্যেক বছর অন্তত একটা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের অ্যালবাম প্রকাশ করে থাকে, বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা থাকায় তার পুরোনো গানের পুনর্প্রস্তুতকরণ করে। যে গান তিনি রেকর্ড করেছেন, যে সুর তিনি সৃষ্টি করেছেন, এবং অসংখ্য গায়ক বাংলা এবং ভারতে তার গায়কী ধরন অবিরত নকল/অনুকরণ করার ফলে তার উত্তরাধিকার এখনো জীবন্ত!

Remove ads

পুরস্কার

  • ১৯৭০:পদ্মশ্রী(অস্বীকৃতি)
  • ১৯৮৭:পদ্মভূষণ(অস্বীকৃতি)
  • ১৯৫৬: ফিল্মফেয়ার বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড: নাগিন
  • ১৯৭১: ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার: নিমন্ত্রণ
  • ১৯৮৩: 'বৈতানিক'-এর তরফে রবীন্দ্রসঙ্গীতে সঙ্গীতাচার্য উপাধি (৯ মে প্রদান করেন শৈলজারঞ্জন মজুমদার)
  • ১৯৮৬: ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার: লালন ফকির
  • ১৯৬২: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড স্বরলিপি - বিজয়ী
  • ১৯৬৩: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড (হিন্দি); বিস সাল বাদ - বিজয়ী
  • ১৯৬৪: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড পলাতক - বিজয়ী
  • ১৯৬৭: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড মণিহার - বিজয়ী
  • ১৯৬৮: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড বালিকা বধূ - বিজয়ী
  • ১৯৭৫: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড ফুলেশ্বরী - বিজয়ী
  • ১৯৮৬: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড ভালোবাসা ভালোবাসা - বিজয়ী
  • ১৯৮৭: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড পথভোলা - বিজয়ী
  • ১৯৮৮: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড আগমন - বিজয়ী
  • ১৯৭২: বিএফজেএ বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার অ্যাওয়ার্ড ধন্যি মেয়ে - বিজয়ী
  • ১৯৭৫: বিএফজেএ বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার অ্যাওয়ার্ড ফুলেশ্বরী - বিজয়ী
  • ১৯৭৬: বিএফজেএ বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার অ্যাওয়ার্ড প্রিয় বান্ধবী - বিজয়ী
  • ১৯৮৫: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সাম্মানিক ডি.লিট
  • ১৯৮৬: সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার
  • ১৯৮৯: মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার
  • ১৯৭১: প্রথম ভারতীয় গায়ক হিসেবে হলিউডের সিনেমায় নেপথ্য কণ্ঠ দান ও আমেরিকা সরকার কর্তৃক বাল্টিমোর এর নাগরিকত্ব লাভ
  • ২০১২: বাংলাদেশের স্বাধীনতা মৈত্রী পুরস্কার (মরণোত্তর)

জনপ্রিয় গান

সারাংশ
প্রসঙ্গ

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া অসংখ্য গানের মধ্যে জনপ্রিয় সেরা কিছু গান :-

জনপ্রিয় সেরা বাংলা গানের তালিকা :-

  • জানিতে যদি গো তুমি (১৯৩৭) (প্রথম গান)
  • প্রাঙ্গনে মোর শিরীষ (১৯৪৬) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • হে নিরুপমা (১৯৪৬) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • প্রিয়ার প্রেমের লিপি (১৯৪৮)
  • কোনো এক গাঁয়ের বধূর কথা (১৯৪৯)
  • পরদেশি কোথা যাও (১৯৪৯)
  • যখন পড়বে না (১৯৫০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • অবাক পৃথিবী (১৯৫০)
  • বিদ্রোহ আজ (১৯৫০)
  • রানার ছুটেছে (১৯৫১)
  • ধান কাটার গান (১৯৫১)
  • নৌকা বাওয়ার গান (১৯৫১)
  • পালকি চলে (১৯৫২)
  • তোমার হল শুরু (১৯৫৩) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • গ্ৰামছাড়া ঐ (১৯৫৩) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • আমার এ পথ (১৯৫৫) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • চলে যায় মরি হায় (১৯৫৫) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • যখন ভাঙলো মিলন (১৯৫৫) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • ধিতাং ধিতাং বোলে (১৯৫৫)
  • পথে এবার নামো সাথী (১৯৫৫)
  • ছেলেবেলার গল্প শোনার দিনগুলি (১৯৫৫)
  • শোনো বন্ধু শোনো (১৯৫৫)
  • সুরের আকাশে তুমি যে গো (১৯৫৫)
  • বসে আছি পথ চেয়ে (১৯৫৫)
  • ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস (১৯৫৫)
  • আজ দুজনার দুটি পথ (১৯৫৭)
  • মেঘ কালো আঁধার কালো (১৯৫৭)
  • নিলাম বালা‌ ছ' আনা (১৯৫৭)
  • সাগর থেকে ফেরা (১৯৫৭)
  • রূপসাগরে ডুব দিয়ে (১৯৫৭)
  • পথ হারাব বলেই এবার (১৯৫৮)
  • দুরন্ত ঘূর্ণির এই লেগেছে পাক (১৯৫৮)
  • আমার গানের স্বরলিপি (১৯৫৮)
  • মৌবনে আজ (১৯৫৮)
  • নীড় ছোটো ক্ষতি নেই (১৯৫৮)
  • সূর্য ডোবার পালা (১৯৫৮)
  • মুছে যাওয়া দিনগুলি (১৯৫৮)
  • ও আকাশ প্রদীপ জ্বেলোনা (১৯৫৮)
  • যদি ভাবো (১৯৫৯)
  • নীল আকাশের নীচে (১৯৫৯)
  • ও নদীরে (১৯৫৯)
  • মন মোর মেঘের (১৯৫৯) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • কে তুমি বসি (১৯৫৯) (অতুলপ্রসাদী)
  • কত রাগিনীর ভুল ভাঙাতে (১৯৫৯)
  • পথের ক্লান্তি ভুলে (১৯৫৯)
  • তোমার ভুবনে মাগো (১৯৫৯)
  • এই রাত তোমার আমার (১৯৫৯)
  • কোনদিন বলাকারা (১৯৫৯)
  • শূর্পনখার নাক কাটা যায় (১৯৫৯)
  • পৃথিবীর গান আকাশ কি (১৯৬০)
  • বিষ্ণুপ্রিয়া গো (১৯৬০)
  • আরো কাছে এসো (১৯৬০)
  • অলির কথা শুনে বকুল হাসে (১৯৬০)
  • এই বালুকাবেলায় আমি (১৯৬০)
  • এই মেঘেলা দিনে একেলা (১৯৬০)
  • কেনো দূরে থাকো শুধু আড়াল (১৯৬০)
  • আমি দূর হতে তোমারেই দেখেছি (১৯৬০)
  • কাজল কাজল চোখে (১৯৬১)
  • জাদু ভরা ঐ বাঁশি (১৯৬১)
  • এই পথ যদি না শেষ হয় (১৯৬১)
  • আমি ঝড়ের কাছে (১৯৬১)
  • মনের জানালা (১৯৬১)
  • তারপর ? তার আর পর নেই (১৯৬২)
  • তুমি এলে অনেকদিনের পরে (১৯৬২)
  • বনতল ফুলে ফুলে ঢাকা (১৯৬২)
  • তারে বলে দিও (১৯৬২)
  • এসো এসো আমার (১৯৬৩) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • আমার কণ্ঠ হতে (১৯৬৩) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • জীবনপুরের পথিক (১৯৬৩)
  • আহা কৃষ্ণ কালো (১৯৬৩)
  • কোন পাখি ধরা (১৯৬৩)
  • তারায় তারায় জ্বলুক বাতি (১৯৬৪)
  • বন্ধু তোমার পথের সাথীকে (১৯৬৫)
  • কে যেন গো ডেকেছে (১৯৬৬)
  • নিঝুম সন্ধ্যায় পান্থ পাখিরা (১৯৬৬)
  • আমি হতে পারিনি আকাশ (১৯৬৬)
  • সব কথা বলা হল (১৯৬৬)
  • এবার নীরব করে (১৯৬৬) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • লাজবতী নূপুরের (১৯৬৬)
  • এমন আমি ঘর (১৯৬৬)
  • বিধিরে এই খেয়া (১৯৬৭)
  • ভজ গৌরাঙ্গ কহো গৌরাঙ্গ (১৯৬৭)
  • কাছে রবে কাছে রবে (১৯৬৮)
  • আহা প্রজাপতি (১৯৬৮)
  • চঞ্চল মন আনমনা হয় (১৯৬৮)
  • ও রাধে থমকে গেলি কেন (১৯৬৮)
  • তোমায় আমায় মিলে (১৯৬৯)
  • আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা (১৯৬৯)
  • শোনো কোনো একদিন (১৯৬৯)
  • এমন একটা ঝড় (১৯৬৯)
  • সবাই চলে গেছে (১৯৬৯)
  • ভালোবেসে দিগন্ত দিয়েছ (১৯৬৯)
  • ওগো কাজল নয়না হরিণী (১৯৬৯)
  • ঠিকানা (১৯৭০)
  • দে দোল দোল দোল (১৯৭০)
  • সিংহপৃষ্ঠে ভর করিয়া (১৯৭১)
  • পীরীতি বলিয়া একটি কমল (১৯৭১)
  • আমিও পথের মতো (১৯৭১)
  • দিনের শেষে ঘুমের (১৯৭১) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • আগুনের পরশমণি (১৯৭১) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • মাগো তোমার ভাবনা কেন (১৯৭১)
  • এ ব্যথা কী যে ব্যথা (১৯৭১)
  • তুমি রবে নীরবে (১৯৭২) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • হরিদাসের বুলবুল ভাজা (১৯৭২)
  • খিড়কি থেকে সিংহদুয়ার (১৯৭২)
  • হাজার টাকার ঝাড়বাতিটা (১৯৭২)
  • একগোছা রজনীগন্ধা (১৯৭২)
  • যদি জানতে চাও (১৯৭২)
  • একদিনেতে হইনি (১৯৭৩)
  • মোর ভাবনারে কী (১৯৭৩) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • রাঙিয়ে দিয়ে যাও (১৯৭৩) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • আমি তো তোমারে (১৯৭৩) (কান্ত গীতি)
  • কতদিন পরে এলে (১৯৭৪)
  • সেদিন তোমায় দেখেছিলাম (১৯৭৪)
  • কে জানে ক' ঘন্টা (১৯৭৪)
  • যেওনা দাঁড়াও বন্ধু (১৯৭৪)
  • টাপুর টুপুর বৃষ্টি (১৯৭৪)
  • তুমি শতদল হয়ে (১৯৭৪)
  • যৌবনসরসী (১৯৭৪) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • পুরানো সেই দিনের (১৯৭৫) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • ধনধান্য পুষ্পে ভরা (১৯৭৫) (দ্বিজেন্দ্রগীতি)
  • আমি পথভোলা (১৯৭৫) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • পাখি তুমি কেন গাও (১৯৭৫)
  • কা তব কান্তা (১৯৭৫)
  • আমি অকৃতি অধম (১৯৭৫) (কান্ত গীতি)
  • দেখ দেখি মন (১৯৭৬) (কান্ত গীতি)
  • লায়লী তোমার (১৯৭৬) (নজরুলগীতি)
  • তোমার চোখের জলে (১৯৭৬)
  • অনেক রাত ঝিমানো চাঁদ (১৯৭৬)
  • আয় খুকু আয় (১৯৭৬)
  • মন বলে আমি মনের (১৯৭৬)
  • চোখ গেল চোখ (১৯৭৮) (নজরুলগীতি)
  • কে জাগে (১৯৭৮)
  • কাল রাতের বেলা (১৯৭৯) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • আসা যাওয়ার (১৯৭৯) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • গোধূলি গগনে মেঘে (১৯৮০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • চরণ ধরিতে দিয়ো (১৯৮০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • এই করেছ ভালো (১৯৮০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • দিয়ে গেনু বসন্তের (১৯৮১) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • আমার পরান যাহা (১৯৮১) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • এতো বেলা হয়ে গেলো (১৯৮১)
  • এ জীবন বেশ চলছে (১৯৮১)
  • আর কিছু না (১৯৮২)
  • বড়ো আশা করে (১৯৮২) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • তোমার কাছে এ বর (১৯৮৩) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • জীবন মরণের (১৯৮৩) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • আমি তোমার প্রেমে (১৯৮৩) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • এসো নীপবনে (১৯৮৩) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • সেদিন দুজনে (১৯৮৩) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • ঝাপসা হয়ে আসছে (১৯৮৩) (কুমুদ গীতি)
  • পথ এখনো শেষ (১৯৮৪) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • কান্না হাসির দোল (১৯৮৫) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • গুরু দোহাই তোমার (১৯৮৬) (লালনগীতি)
  • এলাহী আলামীন (১৯৮৬) (লালনগীতি)
  • এমন মানব জনম (১৯৮৬) (লালনগীতি)
  • আমি আছি কোথায় (১৯৮৬) (লালনগীতি)
  • সব লোকে কয় (১৯৮৬) (লালনগীতি)
  • কোথায় পাবো তারে (১৯৮৬) (গগনগীতি)
  • আমি একদিনও না (১৯৮৬) (লালনগীতি)
  • চিরদিন কাঁচা বাঁশের (১৯৮৬) (লালনগীতি)
  • বেদে কি তার মর্ম (১৯৮৬) (লালনগীতি)
  • কথা কয় রে (১৯৮৬) (লালনগীতি)
  • ঢাক গুড় গুড় (১৯৮৮)
  • এ তো ভালবাসা নয় (১৯৮৮)
  • তুমি যাবার পর (১৯৮৮)
  • জয় বাবা লোকনাথ (১৯৮৯)
  • একটাই শুধু প্রশ্ন আমার (১৯৮৯)(শেষ গান)
  • যে রাতে মোর দুয়ার (১৯৯০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • কৃষ্ণকলি আমি (১৯৯০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  • জনপ্রিয় সেরা হিন্দি গানের তালিকা :-
  • বন্দে মাতরম (১৯৫২)
  • জয় জগদীশ হরে (১৯৫২)
  • ইয়ে রাত ইয়ে চাঁদনী (১৯৫২)
  • ইয়াদ কিয়া দিল নে (১৯৫৩)
  • জাগ দর্দ ইশক (১৯৫৩)
  • জিন্দেগী পেয়ার কী (১৯৫৩)
  • কাশী দেখি মথুরা দেখি (১৯৫৪)
  • না ইয়ে চাদ হোগা (১৯৫৪)
  • চন্দন কা পালনা (১৯৫৪)
  • চুপ হ্যায় ধরতি (১৯৫৫)
  • তেরি দুনিয়া (১৯৫৫)
  • নৈন‌ সে নৈন (১৯৫৫)
  • জানে ওহ্ ক্যায়সে লোগ্ থে (১৯৫৭)
  • হ্যায় আপনা দিল (১৯৫৮)
  • ও নীদ না মুঝকো আয়ে (১৯৫৮)
  • তুমহে ইয়াদ (১৯৫৯)
  • গঙ্গা আয়ে (১৯৬১)
  • বেকারার করকে (১৯৬১)
  • জারা নজরো (১৯৬১)
  • না তুম হামে জানো (১৯৬২)
  • এক বার জারা ফির (১৯৬৩)
  • রাহি তু মত রুক যানা (১৯৬৩)
  • ইনসাফ কী দগর পে (১৯৬৪)
  • ইয়ে নয়ন ডরে ডরে (১৯৬৪)
  • ইয়া দিল কী শুনো (১৯৬৬)
  • ছুপা লো (১৯৬৬)
  • তুম পুকার লো (১৯৬৯)
  • চলতি চলি যায় (১৯৭১)
  • জনপ্রিয় কোঙ্কনি গানের তালিকা :-
  • জুলিয়ানা
  • স্বপন গো ফ্যান্টিচেম
  • মোলবার চন্দ্রিম
  • জনপ্রিয় মারাঠি গান :-
  • মী ভোলকার (১৯৬৯)
Remove ads

সুরকার হিসেবে চলচ্চিত্রের তালিকা

সারাংশ
প্রসঙ্গ

সুরকার হিসেবে ইংরেজি চলচ্চিত্রের তালিকা

আরও তথ্য বছর, নাম ...

সুরকার হিসেবে বাংলা চলচ্চিত্রের তালিকা

সর্বমোট বাংলা চলচ্চিত্রের সংখ্যা: ১৪৭

আরও তথ্য বছর, নাম ...

সুরকার হিসেবে হিন্দি চলচ্চিত্রের তালিকা

সুরকার হিসেবে তার হিন্দি চলচ্চিত্রের সংখ্যা ৫৫

আরও তথ্য বছর, নাম ...

সুরকার হিসেবে অন্যান্য চলচ্চিত্রের তালিকা

আরও তথ্য বছর, নাম ...
Remove ads

উৎসসমূহ

  1. হেমন্ত কুমার মুখোপাধ্যায়, 'আনন্দ ধারা', দেব সাহিত্য কুটীর প্রেস, কলকাতা, ১৯৭০।
  2. এ. রাজাধ্যক্ষ এবং পি. উইলহেল্ম, 'অ্যান এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ইন্ডিয়ান সিনেমা', দ্বিতীয় সংস্করণ, ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউট, ১৯৯৯।
  3. এস. ভট্টাচার্য, 'আমার গানের স্বরলিপি', এ. মুখার্জি প্রেস, কলকাতা, ১৯৮৮।
  4. https://web.archive.org/web/20100107012222/http://www.bfjaawards.com/legacy/pastwin/196225.htm
  5. https://web.archive.org/web/20100108013155/http://www.bfjaawards.com/legacy/pastwin/196326.htm
  6. https://web.archive.org/web/20100108082149/http://www.bfjaawards.com/legacy/pastwin/196427.htm
  7. https://web.archive.org/web/20100106143248/http://www.bfjaawards.com/legacy/pastwin/196730.htm
  8. https://web.archive.org/web/20100108050315/http://www.bfjaawards.com/legacy/pastwin/196831.htm
  9. https://web.archive.org/web/20100108054631/http://www.bfjaawards.com/legacy/pastwin/197235.htm
  10. https://web.archive.org/web/20100114151114/http://www.bfjaawards.com/legacy/pastwin/197538.htm
  11. https://web.archive.org/web/20100108051039/http://www.bfjaawards.com/legacy/pastwin/197639.htm
  12. https://web.archive.org/web/20100108050106/http://www.bfjaawards.com/legacy/pastwin/198649.htm
  13. https://web.archive.org/web/20100108094117/http://www.bfjaawards.com/legacy/pastwin/198750.htm
  14. https://web.archive.org/web/20100108062601/http://www.bfjaawards.com/legacy/pastwin/198952.htm

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ

Loading related searches...

Wikiwand - on

Seamless Wikipedia browsing. On steroids.

Remove ads